করোনাভাইরাস

করোনা নিয়ে শেষ গবেষণার ফলাফল – ভুলগুলো ঠিক করে নিন / The Result Of The Last Study On Corona

করোনা ও আমাদের যত ভুল

করোনার গঠন

করোনা ভাইরাস কোনও জীবিত জীব নয়, তবে লিপিড (ফ্যাট) এর সুরক্ষামূলক স্তর দ্বারা আচ্ছাদিত একটি প্রোটিন অণু (ডিএনএ), যা যখন বুকাল মিউকোসার কোষ দ্বারা শোষিত হয় বা সোজা কথায় বললে মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকতে পারলে তাদের জিনগত কোড পরিবর্তন করে জীবন্ত হয়ে উঠে।



করোনার ধ্বংস কিভাবে

যেহেতু করোনা ভাইরাস কোনও জীবিত প্রাণী নয় তবে একটি প্রোটিন অণু, তাই এটি হত্যা করা যায় না, সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় সে কি করবে। ভাইরাসটি ধ্বংস হবার জন্য তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং যে ধরণের পদার্থে রয়েছে তার উপর নির্ভর করে।

ভাইরাসটি খুব ভঙ্গুর

এটি রক্ষা করে এমন একমাত্র জিনিসটি হ’ল চর্বিযুক্ত পাতলা বাইরের স্তর। যে কারণে কোনও সাবান বা ডিটারজেন্ট হ’ল সর্বোত্তম প্রতিকার, কারণ ফেনা বা খার চর্বিকে ভেঙ্গে দেয়। এজন্য আপনাকে ২০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় ধরে, প্রচুর ফেনা তৈরি করতে হবে। ফ্যাট স্তরটি দ্রবীভূত করার মাধ্যমে, প্রোটিনের অণু ছড়িয়ে যায় এবং এটি নিজেই ভেঙে যায়।

করোনা ভাইরাস এর জন্য কোন জিনিসগুলি থেকে আমাদের সাবধান হওয়া দরকার?

গরম পানিতে বেশি ফেনা

কাপড় বা হাত পরিষ্কার করার জন্য ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ মাত্ৰার পানি ব্যবহার করা ভাল। এই রকম পানিতে বেশি ফেনা সৃষ্টি করে।



ব্লিচিং পাউডার

১ টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার এর সাথে ১ লিটার পানির মিশ্রণ সরাসরি প্রোটিনকে দ্রবীভূত করতে পারে, এটিকে ভিতরে থেকে ভেঙে দিতে পারে। আর যেহেতু করোনা ভাইরাস এর উপর প্রোটিন এর আবরণ দেয়া সেহেতু ব্লিচিং পাউডার এর মিশ্রণটি তার সেই আবরণ কে ভেঙ্গে দিতে পারে।

এটি নিষ্ক্রিয় করার কোনো উপায় নাই

করোনা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার মতো কোনো জীবিত জীব নয়; যা ঔষুধের মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। সাবান-পানি,অ্যালকোহল এবং ক্লোরিন ব্যবহার করার পরে পেরক্সাইড ভাইরাস প্রোটিনকে দ্রবীভূত করে।

আমরা যে সকল দ্রবন ব্যবহার করছি তা কি সত্যিই করোনা ধ্বংস করছে ?

দেখা যাচ্ছে যে, করোনার ভয়াবহতার মাঝে পৃথিবী থেকে করোনা ভাইরাস ধ্বংস করতে যে সব উপাদান ব্যবহার করা যায়, সেই সকল উপাদানের খুব অভাব আবার অনেক ক্ষেত্রে দামও অনেক বেড়ে গেছে। সে অবস্থায় অনেকে বাজারের ওই সকল উপাদানের অল্টারনেটিভ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করতে বলছে। আবার কেওবা ওই সকল উপাদান বাসাতেই তৈরী করার রেসিপি বলে দিচ্ছে। এখন সমস্যা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না যে ওই সকল উপাদান দিয়ে সত্যি সত্যিই কি করোনা ভাইরাস ধ্বংস হচ্ছে ? ধরুন আপনি ১ লিটার পানির ভেতর ১ টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার দিয়ে একটি মিশ্রণ বা ঘরেই হ্যান্ড সেনেটাইজার/হ্যান্ড ওয়াশ সাবান বানালেন এখন বুঝবেন কিভাবে, আপনি যে মিশ্রণটি বানালেন তা ঠিক ভাবে কাজ করছে।

একটি কাঁচের বাটিতে একটু তেল নিন ওই তেলের উপর আপনি যে মিশ্রণটি তৈরি করলেন তা এক চা চামচ ঢেলে দিন দেখবেন কি ঘটনা ঘটে যদি তেল টি দ্রবীভূত হয়ে যায় তবে বুঝবেন আপনার প্রস্তুতকৃত মিশ্রনে করোনা ভাইরাসও সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হবে।

 

The-result-of-the-last-study-on-corona

করোনা ভাইরাস কোথায় কতক্ষন বেঁচে থাকে

এটি একটি পৃষ্ঠের উপর থাকা অবস্থায় একেবারেই জড় এবং কেবলমাত্র ৩ ঘন্টা থাকে কাপড়ের উপর। বাহিরের পোশাক, চাদর বা কাপড় কখনো ঝাঁকুনি দিবেন না, যদি ওই পোশাকের উপর করোনা ভাইরাস থাকে তবে তা বাতাসে উড়ে বেড়াবে প্রায় ৩ ঘন্টা, তামার উপর ৪ ঘন্টা থাকতে পারে, পিচবোর্ড/টেবিল এর উপর ২৪ ঘন্টা থাকতে পারে। লোহা, এস-এস, লিফট এর বোতাম, তালা-চাবি, যেকোনো রকমের দরজার হাতলে ৪২ ঘন্টার উপরে থাকতে পারে এবং ৭২ ঘন্টা প্লাস্টিক এর উপর থাকতে পারে।



করোনা ভাইরাসটি বাতাস বাহিত ?

বাতাসে উড়ে কি না ?

আপনি যদি এটি কাপড় বা কোনো বস্তু ঝাঁকান বা একটি ব্রাশ দ্বারা পরিষ্কার করেন এমন একটি স্তর যেখানে করোনা বসে আছে তবে মনে রাখবেন ভাইরাসটির অণুগুলি আপনার নাকের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং বর্তমানে জাপানের একদল গবেষক একটি বদ্ধ রুমের ভেতর করোনা ভাইরাস ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে বাতাস দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত ভাইরাসটি বাতাসে ভাসতে পারে। সর্বশেষ এক দল গবেষক দাবী করছে যে করোনা ভাইরাস বাতাসে ৩ ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে ভাসতে পারে আবার বাতাসে ভর করে ১ কিলো বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। যেহেতু এখন ঝড়-বৃষ্টির সময়, এ সময় বাতাস অনেক শক্তিশালী ভাবে প্রবাহিত হতে পারে। এ জন্য আমরা দেখতে পায় যে বাতাসে অনেক বড় বড় উপাদানও ভাসে যেমন: গাছের পাতা, পলিথিন ইত্যাদি। সেই হিসেবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায় যে করোনা ভাইরাসও বাতাসে ভর করে বহু দূর পর্যন্ত ছড়াতে পারে। আর মনে রাখবেন যে, এই ভাইরাসটি নিয়ে উন্নত বিশ্বগুলা এক ধরণের যুদ্ধে লিপ্ত, আর তা হচ্ছে ট্রিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ-পৃথিবী শাসনের যুদ্ধ। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ওই দেশগুলি করোনার এন্টিবায়োটিক বা তা থেকে নিরাপদ থাকার উপায় বা ফর্মুলা নিজেদের সুবিধা মতন প্রকাশ করছে। তাই আপনার নিজের ও পরিবার নিয়ে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা আপনার নিজেকে গ্রহণ করতে হবে।

বিভিন্ন পরিবেশে ভাইরাসের আচরণ

ভাইরাসের অণুগুলি ঠান্ডায় খুব স্থিতিশীল থাকে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী স্থান গুলোতে বেশ ভালো থাকে, বিশেষত অন্ধকারেরও বেশ ভালো থাকে। শুষ্ক, উষ্ণ এবং উজ্জ্বল পরিবেশ এটি ভালো করে না।

ত্বক ভেদ করতে পারে কি ?

ভাইরাস সুস্থ ত্বকের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না।

ভিনেগার কি করে

আমাদের দেশে অনেকেই বলছে ভিনেগার করোনা ঠেকাতে কার্যকর। কিন্তু কার্যতঃ ভিনেগার করোনা ভাইরাসের চর্বির প্রতিরক্ষামূলক স্তর ভেঙে দিতে পারে না।

অ্যালকোহল

৬৫% অ্যালকোহল সহ যে কোনও মিশ্রণ করোনা ভাইরাসের ফ্যাট হ্রাস করে, বিশেষত ভাইরাসটির বহিরাগত লিপিড স্তরটি ভেঙ্গে দিতে পারে। যদি এই চরম মুহূর্তে ৬৫ ভাগের উপরে অ্যালকোহল বাজারে না পাওয়া যায়, তবে হার্ডওয়্যার এর দোকানে যে মিথাইল এলকোহল বা আরেক নাম স্প্রীড / এলকোহল রাব পাওয়া যায় সেটি কে অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন কারন এতে তেল একটু সময় নিয়ে হলেও দ্রবীভূত হয়ে যায় অর্থাৎ করোনা ভাইরাসও খুব সহজেই শেষ হয়ে যায়। তবে মিথাইল এলকোহলে কারো কারো হাতে এলার্জি হতে পারে।

ভাইরাসের ঘনত্ব

সীমাবদ্ধ জায়গাতে ভাইরাসের ঘনত্ব বেশি হতে পারে। যত বেশি উন্মুক্ত বা প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচল করবে ভাইরাসের ঘনত্ব তত কম হবে।

 হাত আরো কখন কখন ধুতে হবে

বাহির থেকে ঘরে ফিরে, বাথরুম ব্যবহার করার পর এবং শ্লেষ্মা, খাবার, তালা, নক, সুইচ, রিমোট কন্ট্রোল, সেল ফোন, ঘড়ি, কম্পিউটার, ডেস্ক, টিভি ইত্যাদি স্পর্শ করার আগে এবং পরে আপনার হাত ধুতে হবে।

হাত ধোবার নিয়ম

হাত ধোবার পর আপনাকে হ্যান্ডস ড্রাই করতে হবে, কারন করোনা ভাইরাসের অণুগুলি মাইক্রো ফাটলগুলিতে লুকিয়ে থাকতে পারে। হাত ধোবার পর ঘন ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ভাইরাস এর জন্য কোন জিনিসগুলি থেকে আমাদের সাবধান হওয়া দরকার?

করোনা থেকে বাঁচতে ও সুস্থ থাকতে সহজ কয়েকটি নিয়ম

হাতের ও পায়ের নখ

হাতের ও পায়ের নখ গুলি ছোট রাখুন যাতে ভাইরাসটি সেখানে লুকিয়ে থাকতে না পারে।

মাস্ক ও অন্যান্য

মনে রাখবেন, ভাইরাসটি নাক, চোখ ও মুখ দিয়ে আপনার শরীরে ঢুকতে পারে। এজন্য মুখ ঢাকা থাকা সবচে বেশি প্রয়োজন। এ জন্য সবথেকে কার্যকর মাস্ক হচ্ছে N 95 সিরিজ এর মাস্ক যা রোগীর কাছে যারা থাকবে তারা ব্যবহার করবে। কিন্তু যেহেতু কাউকে রোগী বলে সনাক্ত করতেও অনেক সময় লাগছে, সেহেতু আপনি কখন যে একজন রোগীর সংস্পর্শে আসলেন তা তো আপনি বুঝতেই পারবেন না, আর N 95 সিরিজ এর মাস্ক বেশ দামী ও সহজলোভ্য নয়, তাছাড়া এটিও ৯৫% নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবে। তাহলে আপনি কি করবেন, সাধারণ মাস্ক একটির উপর আর একটি মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়াও আপনি চীনকে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে তারা এখন করোনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কত রকমের পোশাক বানিয়ে মার্কেটে ছেড়েছে। আপনি বাজার থেকে সেই পোশাক গুলা সংগ্রহ করতে পারেন। যা আপনাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবে।



 

এই সকল নিয়ম কানুন পালন করে এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকা সম্ভব। তবে মনে রাখবেন এটি চির স্থায়ী নয়। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কোনো দুর্যোগই চির স্থায়ী হয় নাই, তাই কষ্ট করে যদি কিছুদিন নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলতে পারেন তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নতুন এক বাসযোগ্য পৃথিবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button