দরকারী তথ্য

ব্যবসায়ীদের জন্য খণ্ডকালীন অফিস ভাড়া-Office Rent



আমাদের দেশে ধীরে ধীরে বিভিন্ন বয়সের উদ্যোক্তা বাড়ছে।  ব্যতিক্রমী চিন্তা ভাবনা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের ভিতর ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। পড়াশোনা করে শুধু চাকরিই নয় বরং ব্যাবসাও করা যায় এমন মানসিকতা আমাদের তৈরি হচ্ছে। তারা এখন পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ছেলেমেয়েরা আমাদের থেকেও বহুগুণে এগিয়ে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা  তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে গেছে। যদিও এখনো তা ব্যাপকতা লাভ করতে পারে নাই। এখনো আমাদের দেশের কিছু ছেলেমেয়ে সেই আদি কালের ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে আছে যে পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকবে। আমি তাদের কথা বলছি না, আমি বলছি তাদের কথা যারা একটু ব্যতিক্রমী চিন্তা-ভাবনা থেকে ব্যবসা শুরু করেছে , তাদের কথা ভেবেই আমাদের দেশের কিছু ছেলে মেয়ে ‘কো-ওয়ার্কিং প্লেস’ তৈরি করেছে। বর্তমান বিশ্ব খুবই চ্যালেন্জিং, করোনা পরিস্থিতির পর বিষয়গুলা আরো সামনে চলে এসেছে। করোনা থেকে আমরা এটা বুঝতে পেরেছি যে টিকে থাকার জন্য আমাদের টেকনোলজি নির্ভর ব্যাবসার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যে সকল নতুন উদ্যোক্তা এই মুহূর্তে স্থায়ীভাবে অফিস ভাড়া নিতে পারে না, ব্যবসাও এখনো অত বড় নয়,  কিন্তু একটি অফিসের খুব প্রয়োজন, এ রকম উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে ঢাকা শহরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, এখানে উদ্যোক্তারা খুব সহজে তার প্রয়োজন মতো অফিস এর সকল সেটআপ হাতের কাছে পাবে।এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘কো-ওয়ার্কিং প্লেস’। এখানে অনেক মানুষ একসাথে কাজ করতে পারবে।

হাবঢাকা: এই প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে। উদ্যোক্তারা যদি এখানে অফিস করতে চায় তবে তাদেরকে এখানে সদস্য হতে হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণত রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।  এটির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১৩০ জন। শুক্রবারে সেমিনারের জন্য আলাদাভাবে আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ভাড়া নিতে পারবেন। এটা মিরপুর  ১১ নাম্বারে অবস্থিত। আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনি তাদের ওয়েবসাইটে ঘুরে আসতে পারেন।



 মোড়: বনানীতে ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়। বেশ নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করে। এটা অবশ্য সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কাজ করে। সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৭০ জন। এখানেও বিভিন্ন আকারের সভা-সেমিনার করার ব্যবস্থা আছে। যদি উদ্যোক্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় তবে তাদের ওয়েবসাইট ঘুরে আসতে পারে।

ইনহাউজ: যাদের বিলাসবহুল অফিস প্রয়োজন তারা ধানমন্ডি দুই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এখানে বিশাল একটি বারান্দা রয়েছে। এখানে অফিস/সেমিনার করা যাবে।  প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে আপনি টেবিল বা অফিস রুম ভাড়া নিয়ে চালাতে পারবেন। একদিনের, তিন দিনের, পাঁচ দিনের জন্য অথবা মাস ভিত্তিক এখানে ভাড়া নেওয়া যাবে।

হাইভ: বছরখানেক হলো গ্রিন রোডে শুরু হয়েছে হাইভ, এটা একটু খোলামেলা আলাদা আলাদা কক্ষসহ অফিস আছে। আর সভা-সেমিনার তো করাই যাবে। এখানে দিন, সপ্তাহ, মাস হিসেবে ভাড়া পাওয়া যায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

 দ্য ওয়েভ: এরপরে আছে দ্য ওয়েভ,বনানীতে অবস্থিত। একদিন, তিনদিন, পাঁচদিন, মাস ভিত্তিক এটাকে আপনি নিতে পারবেন। এছাড়াও এখানে অফিসের সকল সুযোগ সুবিধা আছে। শুক্র-শনিবার এখানে যেকোনো ধরনের সভা-সেমিনার আপনি করতে পারবেন।



 প্রধানত নতুন উদ্যোক্তাদের অফিস এর কারনে ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে বা ব্যবসা থেকে তারা ছিটকে পড়বে সেই পরিবেশটা যেন তাদের না হয়, তারা যেন পরিপূর্ণ অফিসের পরিবেশে কাজ করতে পারে,  তার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অসংখ্য নতুন নতুন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছে তাদের সুযোগ-সুবিধা,  তাদের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করেই এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা শহরে এরকম অফিস তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরগুলোতেও এরকম অফিস তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। ইন্টারনেট সুবিধা থেকে শুরু করে একটি অফিসের প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা এখানে আপনি পেতে পারেন।

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button