বাংলাদেশ

ফেসবুকের ভুয়া খবর বোঝার সহজ উপায় জেনে নিন

আমাদের তৈরী করা ফেসবুকের ভুয়া খবর

ফেসবুকের ভুয়া খবর সম্প্রতি সমাজে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব ভুয়া খবরের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে পেজ,পত্রিকা বা ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো। কিন্তু এগুলো সমাজ, জাতি সর্বোপরি জনসাধারণের জন্য খুবই ক্ষতিকর। স্বয়ং ফেসবুক কতৃপক্ষ ভুয়া খবর খুঁজে পেতে এবং চিহ্নিত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এখনো এই সমস্যা রয়ে গেছে। এর কারণ হল যে, ফেসবুকে যে কেউ চাইলেই যেকোনো ধরনের নিউজ তৈরী করে পাবলিক করে দিতে পারে। আর এই কাজটি করার জন্য বিভিন্ন ফেসবূক ফেক আইডি তৈরী করা হয়। সে ক্ষেত্রে বিশেষত বিভিন্ন মহিলা মডেলের ফটো ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি একাউন্ট থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার বন্ধু সংগ্রহ করে তৈরী করা হয়। মূলত এই সব একাউন্ট গুলো এই জাতীও কাজে ব্যবহার করা হয়।



এখন কোনটা ভুয়া নিউজ আর কোনটা সত্যি নিউজ সেটার খুঁজে বের করার মত কোন ফেসবুকের নিজস্ব কোনো উপায়ও নেই। সেহেতু বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার নিজের জ্ঞানের উপর নির্ভর করবে। তাই আপনার সেই জ্ঞানকে আরো বাড়িয়ে দিতে আমার আজকের এই লেখা। এই পোস্টে আমি শেয়ার করবো ফেসবুকে ভুয়া খবর চেনার সহজ উপায় গুলো।

চলুন দেখে নেওয়া যাক ফেসবুকে ভুয়া খবর চেনার কিছু উপায়:

১। ফেসবুকে ভুয়া খবরের শিরোনাম বা ফোকাস কীওয়ার্ড:

ফেসবুকের ভুয়া খবর
ফেসবুকের ভুয়া খবর

ধরুন, একটি খবরের শিরোনামটি খুবই চমকপ্রদ, কিন্তু ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। তাহলে প্রথমেই কোনো খবরের শিরোনাম বা হেডলাইন দেখেই চিন্তা করতে হবে এটা ঘটার সম্ভাবনা আসলে কতটা। কয়েকদিন একটু খেয়াল করে দেখবেন ভুয়া খবর প্রায়ই অতিমাত্রায় চমকপ্রদ শিরোনামে হাজির হয়। তাই শিরোনাম সন্দেহজনক মনে হলে সেই খবরের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

২। ওয়েবসাইটের লিংক:

ফেসবুকে যখন কোনো খবর এর শিরোনাম দেখিয়ে ক্লিক করার জন্য আপনাকে উৎসাহ দেওয়া হবে তখন আপনি ওইখানে অবস্থিত ওয়েবসাইটের লিংকের দিকে খেয়াল করবেন। লিংকটি পোস্টের ইমেজের উপরে অথবা নিচে দেখতে পাবেন। এখন অবশ্য নতুন একটি ট্রেন্ড চালু হয়েছে আকর্ষণীয় শিরোনাম পোস্ট দিয়ে কোথাও একটি জায়গায় বলে দেওয়া হচ্ছে যে, প্রথম কমেন্টস এ লিংক দেওয়া আছে। তাহলে বুঝতে পারছেন লিংক ( মানে www. ) কোথায় দেখতে পাবেন।    দেখবেন ওই লিংকের ভেতরে ওই ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করা আছে। সেই সাইটের ঠিকানার দিকে দৃষ্টি দিন। যদি সেটি একটি অপ্রতিষ্ঠিত বা নকল ওয়েবসাইট হয় তবে তাদের খবরের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবেন। এখন নকল ওয়েবসাইট চিনবেন কি করে? ধরুন যুগান্তর বলে বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা আছে, এখন আপনি দেখতে পাচ্ছেন লিংকে দেওয়া আছে যুগন্তর, এইটাই হলো নকল ওয়েবসাইট। সেই ক্ষেত্রে ওই সকল ওয়েবসাইটের ভুয়া খবর প্রচার ও শেয়ার করাটাও এক ধরণের সামাজিক অপরাধের ভেতর পড়ে।



৩। ফেসবুকে ভুয়া খবরের উৎস:

কোনো খবর বিশ্বাস করা বা শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, যে সূত্রের দ্বারা আপনি সংবাদটি পাচ্ছেন সেটি প্রতিষ্ঠিত এবং বিশ্বস্ত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা। অর্থাৎ নিউজ পোর্টালগুলোতে বিশেষ কোনো খবর লেখার শুরুতে ওই সংবাদটি কোন সূত্র থেকে এসেছে তা উল্লেখ থাকবে। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়টার, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ইত্যাদি, আর বাংলাদেশের আছে বাসস, এনা ইত্যাদি। আবার নিজেস্ব প্রতিনিধি দ্বারা তৈরী করা সংবাদও হতে পারে, সে ক্ষেত্রে বুঝে-শুনে আরেকজনের সাথে শেয়ার করবেন। তবে প্রতিষ্ঠিত পত্রিকাগুলো সাধারণত বিশ্বস্ত সূত্র থেকেই খবরের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

৪। লেখার মান:

অধিকাংশ ভুয়া খবর প্রায়ই ভুল বানান রীতি অনুসরণ করে। শুধু তাই নয় তারা ভুল পদ্ধতিতে সংবাদ প্রকাশ করে। আর একটা বিষয় হল যারা প্রফেশনাল তারা সেই বিষয়ে ভালো ভাবে দক্ষভাবে কাজ করে। অর্থাৎ তারা এটা জানে কোথা হতে সঠিক খবরটি সংগ্রহ করা যায়। তারা এটাও জানে শুধু ট্রাফিক জেনারেট করলেই হবেনা বরং পাঠকদের মনের মাঝে থাকতে গেলে সত্য খবরটি লিখতে হবে। আর যারা প্রফেশনাল না কোন দক্ষতা ছাড়াই এই পেশায় চলে আসে।  তাদের মাথায় একটি বিষয়ই থাকে, যে কোনো উপায়ে দর্শকদেরকে ক্লিক করাতে হবে। দীর্ঘদিন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে, যে পাঠকের মনের মাঝে গভীর জায়গা তৈরী করা সম্ভব, সেই বিশ্বাসটাই তাদের নাই।   আর যার ফলে আপনি ভুয়া নিউজ বা ভুল আর্টিকেল পড়েন।

৫। বিশ্বস্ত ওয়েব সাইট:

আমাদের দেশের প্রায় প্রত্যেক টিভি চ্যানেলের বা পত্রিকার নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ আছে। তাছাড়াও বর্তমানে বেশ কিছু অনলাইন নিউজপোর্টাল খুব ভালো লিখছে। সেগুলোর খবর ছাড়া বাকি গুলোকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। তাই আগে জেনে নিন আপনি যেই খবরটি দেখছেন সেটা কারা প্রকাশ করেছে।



৬। একাধিক সূত্রে যাচাই করুন:

ধরুন আপনি একটি খুবই আকর্ষণীয় সংবাদ পড়লেন, এখন একটু নজর রাখুন যে অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যম একই সংবাদ প্রচার করে কিনা। যদি এমন হয় অন্য কোথাও আপনি খবরটি দেখতে পেলেন না তবে ওই সংবাদে ভুল থাকলেও থাকতে পারে। তবে আপনি আপনার নিজেস্ব সূত্র থেকেও নিশ্চিত হতে পারেন। সুতরাং চমকপ্রদ কোনো খবর পেলেই  অন্যান্য সংবাদপত্র দেখে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করুন।

৭। রঙ্গ কি না যাচাই করা:

কখনো কখনো শুধু মাত্র মজার জন্য কিছু ফিচার প্রকাশিত হতেই পারে। তবে অবশ্যই জানতে হবে যে সেটা কৌতুক ছিল কিনা। যেটা পড়ছেন সেটা নিয়ে একটু চিন্তা করুন এবং এটা আসলে রঙ্গ না সঠিক নিউজ।

ফেসবুকের ভুয়া খবর ও সতর্কতা নিয়ে শেষ কথা:

সব শেষ কথা ফেসবুকের ভুয়া খবর গুলো যেমন আমাদের দেখেই চিনতে হবে তেমনটি যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও ব্যাক্তিগত বিষয়য়ের ছবি বা তথ্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button