অনলাইনে ইনকাম

কিভাবে বাংলাদেশে পেপাল ব্যবহার করা নিরাপদ ও সহজ

বাংলাদেশে পেপাল !!!

অনেকদিন ধরে দেখছিলাম যে আমাদের দেশে পেপাল নিয়ে নানা ধরনের মিথ চালু আছে, যে যেভাবে পারছে বলে যাচ্ছে। তাই আজ আমি আলোচনা করব কিভাবে বাংলাদেশে পেপাল একাউন্ট ব্যবহার করা আপনার জন্য নিরাপদ সে বিষয়ে, তাহলে চলুন শুরু করা যাক;



আপনি যদি একটি পেপাল ব্যবহার মোটামুটি রিস্ক ফ্রী ভাবে করতে চান তবে আপনাকে যা করতে হবে

১। প্রথমে নিজের নামে একটি পেপাল একাউন্ট খুলুন, তবে যদি বয়সটা আপনার ১৮ বছরের কম হয় তবে বিকল্প হিসাবে পরিবারের অন্য কারো নাম আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

২। যদি আপনি অন্য কারো নামে একাউন্ট খুলেন তবে সে ক্ষেত্রে মনে রাখবেন যে, যার নামে একাউন্ট খুলছেন তার অবশ্যই ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকতে হবে।

৩। যেহেতু বাংলাদেশ পেপাল সাপোর্টেড নয়, তাই পেপাল কে বুঝাতে হবে যে আপনি বাংলাদেশী কিন্তু থাকেন বিদেশে, আর সেখানে ব্যবসা বা ফ্রীল্যান্সিং করেন।

৪। আপনি নিজে অথবা যার নামে পেপাল একাউন্ট করবেন তার অরিজিনাল পাসপোর্ট এর ছবি সাবমিট করতে হবে এবং পাসপোর্ট এর তথ্য দিয়ে রেজি. ফর্ম পূরন করতে হবে, যেমন – নাম, জন্ম তারিখ এসব আর কি।

৫। যেই দেশের অফিসিয়াল পেপাল একাউন্ট ব্যবহার করবেন, সেই দেশের একটি সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করবেন, সেটি কিভাবে করবেন আমার ধারণা আপনি জানেন। আর বিষয়টা খুব জটিলও না।



৬। পেপালের একাউন্ট খোলার আগে একটি ইন্টারন্যাশনাল ভিসা কার্ড তৈরী করে ফেলবেন, সেটি কিভাবে করবেন সেটি নিয়ে অন্য একটি আর্টিকেলে বিস্তারিত বলা আছে, তাই এখন আর আলোচনা করলাম না কিন্তু। ওই ইন্টারন্যাশনাল ভিসা কার্ডটি পেপালে সংযোজন করতে হবে, যেই কার্ড এর মাধ্যমে পেপাল থেকে সরাসরি ডলার বাংলাদেশ থেকে উইথড্র করার কাজে ব্যবহার করা হবে।

৭। ভিসা কার্ডটির নাম, ঠিকানা ও পেপালের নাম, ঠিকানা একই হতে হবে। তাতে করে আপনি একটা সুবিধা পাবেন যে ওই কার্ড এর স্ট্যাট্মেন্ট তুলে পেপাল এর এড্রেস ভেরিফাই করে ফেলতে পারবেন। মনে রাখবেন এখানে আপনি জানতে পারছেন পেপাল সম্ভব, এর কোন ষ্টেপের পর কোনটি করে আসলে আপনি পরবর্তীতে সমস্যায় পড়বেন না অথবা সুবিধা পাবেন।

৮। পেপালে যেই দেশের ঠিকানা ব্যবহার করবেন, সেই দেশের একটি মোবাইল নম্বর থাকতে হবে আপনার কাছে। যেটাতে ইন্টারন্যাশনাল রোমিং চালু থাকবে, আপনি আপনার মোবাইলে ঢুকালে যেন নেটঅওয়ার্ক পান এমন। এই ফোন নাম্বারটি আপনি বাংলাদেশের কিছু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেতে পারেন যা আপনি ফেইসবুক থেকে একটু সার্স করলেই পেয়ে যাবেন। এই নাম্বার টি পেপাল এর মোবাইল ভেরিফিকেশনে ব্যবহার হবে।



 

৯। ভিপিএন ব্যবহার ব্যবহার করবেন না, বিশেষ করে পেপালে Log in বা Sign up এর সময় কোনো ধরনের VPN বা Proxy ব্যবহার করবেন না। সকল বিষয় আপনি ঠিক ঠাক মতো করতে পারলে, আপনি নিজেই পেপাল একাউন্ট খুলতে পারবেন, লিমিট হলে যে কোন সময় রিভেরিফাই করতে পারবেন, বন্ধ হয়ে গেলে আপিল করতে পারবেন, ভেরিফাই জনিত কারনে পেপাল কখনো ব্লক হবেনা।

পেপাল একাউন্ট কেন বন্ধ হয়ে যায়

ইলিগ্যাল বা পেপাল রুলস ব্রেক করে এমন কোন লেন-দেন করলে পেপাল আপনার একাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে, সেটা যদি ইউএসএ এর সিটিজেন হয়ে ১০০% রিয়েল ডুকুমেন্টস দিয়ে পেপাল ইউজ করে তবুও, তবে সেক্ষেত্রে বলে রাখি এমন অনাকাংখিত কিছু ঘটলেও আপনার পেপাল ব্যালেন্স হারাবে না, কারন ১৮০ দিন পর আপনার ভিসা কার্ড এ ব্যালেন্স টা দিয়ে দিবে।

যা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন

আশা করি, এই শর্ত গুলো পূরণ করে পেপাল একাউন্ট খুলে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন, আর যদি কেউ ফেইক ডুকুমেন্টস দিয়ে সাময়িক ভেরিফাই করে সস্তায় একাউন্ট ওপেন করে দেয় এবং আপনি হয়তো সস্তায় কিনতে পারবেন কিছু দিন ব্যাবহারও করতে পারবেন কিন্তু লিমিট হলে রিভেরিফাই করতে পারবেন না, ২/১ বার পারলেও কোন না কোন সময় আপনি ধরা খাবেন ১০০% শিউর থাকেন এবং এই ব্যাপারে কোনো ভুল নাই, আর সেদিন আপনার একাউন্ট এ যত ব্যালেন্স থাকবে সব হারাবেন।

সতর্ক থাকা ভালো

আশা করি আপনার পেপাল এর সুরক্ষা আপনি নিজেই দিতে পারবেন এখন থেকে। সুতরাং প্রতারনার হাত থেকে বাচুন…।

আপনি যদি একটি নির্ভরযোগ্য পেপাল একাউন্ট ওপেন করতে চান তবে সাজেস্ট করব মালয়েশিয়ান বিজনেস পেপাল ওপেন করুন কারন এই পেপাল এর শর্ত ইউএসএ এর চাইতে সহজ ও বাংলাদেশ এ স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার উপযোগী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button